পোস্টটির প্রকাশকালঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি.
জনাব সৈয়দ জ্বিন আরিফের সমিতির দেনা পাওনা সমূহ কে দিবে, কেন দিবে ও কিভাবে দিবে!?
আমার পরিচয় ও ঠিকানাঃ
নাম ও পিতার নামঃ
সার্টিফিকেটে আমার নাম আরিফ উল্যাহ চৌধুরী। মানুষেরা মুহাম্মদ আরিফ উল্যাহ হিসেবে জানে।
ইতিপূর্বে আমি আমার অনেকগুলো পোস্টের মাধ্যমে জানিয়ে ছিলাম যে, আমার মায়ের বংশ অনুযায়ী আমার নাম এফিডেভিট করে, সৈয়দ আরিফ উল্যাহ রাখবো। কিন্তু এখন এটা প্রমাণিত সত্য যে আমার সাথে এক বা একাধিক বা একদল মুমেনা জ্বিন থাকে, যা আমার পরিচিতজন বা এলাকাবাসী জানে। তাই এখন আমি আমার নাম 'সৈয়দ জ্বিন আরিফ' পছন্দ করছি। সে হিসেবে এ পোস্টে আমার নাম সৈয়দ জ্বিন আরিফ লিখেছি এবং ইনশা'আল্লাহ এফিডেভিট করে বা প্রসেসিং করে আমার জন্য আমি এ নামটিই রাখবো। আমার বাবার নাম মরহুম ডাঃ ছিদ্দিক আহাম্মদ।
ঠিকানাঃ
ডাক্তার ছিদ্দিক আহাম্মদের বাড়ি, গোবিন্দপুর, হাজীর বাজার, ফেনী সদর, ফেনী।
বর্ণনাঃ
বন্ধ হয়ে যাওয়া বন্ধন ইসলামি সমিতি, গোবিন্দপুর, হাজীর বাজার, ফেনী- এর এমডি হিসেবে আমি জনাব সৈয়দ জ্বিন আরিফ কর্তৃক স্বীকারোক্তি দিচ্ছি যে, সমিতি বন্ধ করে দেয়ার পর, অদ্য ১০/১১/২০২৫ ইং তারিখ অনুযায়ী প্রায় ৪/৫ বছর গত হয়ে গেলেও, আমার কাছে এখনো সদস্যগণ অনেক টাকা পাবে এবং আমিও কিছু সদস্যের নিকট অল্প কিছু টাকা পাবো। যার একিউরেট হিসাব আমি আমার এ ব্লগে প্রকাশিত অন্য একটি পোস্টে প্রকাশ করেছি। আপনারা এখানে ক্লিক করে সে পোস্টটি দেখে নিতে পারেন।
মানুষের এ টাকা গুলো আমি পরিশোধ করার লক্ষে, সমিতির অফিস ঘরের জন্য নির্মাণ করা, রাস্তার পাশে এ ঘরটি এর জমিসহ বিক্রী করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
কিন্তু এতে আমাকে প্রচন্ড ভাবে বাধা দিচ্ছে, আমার স্ত্রী ও আমার বড় ভাই জনাব শরাফত উল্যাহ শরীফ।
এখানে সবাইকে একটা কথা বলে রাখি, আমার এ জায়গাটির ৩৩ পয়েন্ট এর মতো আমার বড় ভাইর কেনা সম্পত্তি; বাকিটা বাবার নামে। বড় ভাই বাড়িতে জায়গা বেশি ভোগ করায়, আমাদের বাকি দু'জনকে আমার এ অফিস ঘরের এখান দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে।
এখন এ জমি কিনতে আমার কোন কাস্টমার এলে আমার মেজভাই কাস্টমার দেরকে, আমি রেজিস্ট্রি দিতে পারবো না, জমিতে সমস্যা আছে, আমি কী জমি বিক্রী করছি! ইত্যাদি বলে কাস্টমারদেরকে ফিরিয়ে দেয়, দিচ্ছে এবং দিয়েছে!
ইতিপূর্বে আমার এক কাস্টমার ঘরসহ জমিটি ৮ লক্ষ টাকা বলেছিলো এবং যে এ কাস্টমারকে এনেছিলো সে বলেছিলো ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিতে পারে। আমি বলেছিলাম ১০ লক্ষ টাকা হলে দিয়ে দেবো।
কিন্তু আমার ভায়ের এমন কথা-বার্তায় কাস্টমারটি চলে গেলো।
মূলত জমিতে সমস্যা নয়, আমার ভাই জমিটি বিক্রীই করতে দেবে না। তার মতে হয়তোবা, আমার মেয়েরা আছে, তাদেরকে বিয়ে-সাদী দিতে টাকা পয়সা লাগবে, তখন আমার ভায়েরা হয়তো বিপদে পড়তে পারে অথবা বংশীয় অসম্মান হবে, এ কারণে অথবা আগে আমাকে শয়তান জ্বীন হিসেবে চিহ্নিত করে ও তাকে তাড়াতে না পেরে, তখন আমাকে ভবিষ্যতের সকল কাজে বাধা প্রদান করবে বা অসহযোগিতা করবে, এ রকম সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে, অর্থাৎ জ্বীনকে কোন ভাবে উঠতেই দেবে না, আল্লাহকে পাওয়া বা দুনিয়াতে বেড়ে উঠা, সকল কাজেই তারা বাধা দিবে, তারমানে যেহেতু আমি প্রথমে তাদেরকে সমীহ্ করিনি, তাদের কাউকে মানিনি; আর তাই, তারাও এ সমাজে প্রমাণ করবে যে, আমি অযোগ্য, আমি শয়তান জ্বীন, যেহেতু তারা মানুষদেরকে এ রকম বলেছে, এ কারণে অথবা কেন আমাকে জমি বিক্রী করতে দেবে না; তার নিয়তে বা মগজে কী এটা সেই'ই জানে।
যে কারণেই হোক তিনি আমার এ জমিটি বিক্রী করতে বাধা দিচ্ছে।
আসলে জমিটি বড় ভায়ের সাথে এজবদল করে নিয়েছি, তাই মানুষকে উনি যা বলেন, এসব কোন সমস্যা না। আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন না(?), আমি আজ অনেক বছর এ ঘরটি ভোগ দখল করছি। আমার মালিকানায় যদি সামান্যও ত্রুটি থাকতো, বা আমার ভাইগণ যদি এতে অসন্তুষ্ট থাকতো, তাহলে কি আমি এ ঘরটি এভাবে ভোগ দখল করতে পারতাম। আমাকে দূর্বল পেয়ে বা মাতবরি করতে গিয়ে হয়তো অতীতে আমাদের কেউ কেউ কিছু কথা বলেছে বা বর্তমানেও বলতে পারে, এসব কি আপনারা বুঝেন না?
আমাদের ভাইদের মধ্যে একটা এজবদল দলিল করলেই বিষয়টার সমাধান হয়ে যায়। তখন যার জায়গা সে বিক্রী করতে পারে। এতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না।
আমার বড় ভাইকে (জনাব মাষ্টার শহীদ উল্যাহ) বিষয়টি বলায়, তখন তিনি আমায় স্পষ্টই বললেন, তাকে এজবদল মালিকীয় দলীল করে দিলে, আমার এ জমি বিক্রী নিয়ে, তার কোন বাধা বা মাথাব্যথা থাকবে না।
আপনারা প্রয়োজনে আমার মেজভাইকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, এ জমি এবং ঘরের মালিক আমি কিনা? আমি যদি মালিকই হই তাহলে আমি বিক্রি করতে পারবো না কেন? আর যদি বিক্রীই করতে না পারি, তাহলে আমি কেমন মালিক? এটা কি আমার ন্যায্য ও বৈধ মালিকানায় তাদের সরাসরি অবৈধ হস্তক্ষেপ নয়?
আজ আপনি আপনার জায়গা-জমি বা যে কোন বিষয়ে, আরেক ভাইয়ের যে কোন হস্তক্ষেপ কি মেনে নিবেন!? নিবেন না। তাহলে আমাকে কেন মেনে নিতে হচ্ছে বা অন্যান্য বিষয়েও আপনাদের কৌশলগত হস্তক্ষেপ কেন মেনে নিতে হয়েছে বা হচ্ছে? এটা কি আপনাদের অন্যায় না?
বিষয়টা এমন নয় যে, আপনাদেরকে কেনার জন্য প্রথমে আমি আহবান জানাইনি? ঘরটুকু এর জমিসহ কিনতে প্রথমে আমি আপনাদের দু'ভাইকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আপনাদের কারোকাছে টাকা না থাকার কথা বলে, আপনারা কেউ কিনতে পারবেন না বলে আমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়ে ছিলেন। আপনারা কিনতে না চাওয়ায়, যেহেতু আমাকে লোন শোধ করতে হবে এবং নিজ ক্যারিয়ারের জন্যও কিছু পুঁজি প্রয়োজন, এ জন্য আমি অন্যত্র বিক্রী করে ফেলতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আরে ভাই আমিওতো ভেবেছিলাম জ্বীন আমাকে ইনকামের কোন না কোন পথ খুলে দিবে, অথবা বেশি বড়লোকি দেখিয়ে বা যে কোন ভাবে অন্তত ইনকামের পথে বাধা সৃষ্টি করবে না অথবা নিজেই স্বর্ণ বা মণি-মাণিক্য নিয়ে আসবে!? কিন্তু কই! আমি আর কতকাল অপেক্ষা করবো! রিস্ক নিয়ে আর কতকাল থাকবো! আমি কি আল্লাহু তা'য়ালার গোলাম এবং রাসূল (সাঃ) এঁর উম্মত নই!?
আমার ভাইয়ের জানা উচিৎ, ইসলামী আইন অনুযায়ী আরেক সাবালক ভায়ের ন্যায্য প্রাপ্তব্য হিস্যায়, মাতবরি করার বা তাকে অধীনস্থ রাখার কৌশল করে নিজে বড় থাকার, তাকে তার সঠিক হক প্রদানে জটিলতা সৃষ্টি করার বা তাকে হক প্রদান না করার, অধিকার অন্য ভাইদের রয়েছে কিনা?
বা ভাইয়ের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, অথবা ভাইয়ের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে-শাদি বা তাদেরকে প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হতে পারে, অথবা অন্যকোন উদ্দেশ্যে ভাইকে তার সম্পত্তির মালিকানায় হস্তক্ষেপ করা, মানুষের পাওনা টাকা পরিশোধে ভাইকে বাধা দেওয়া, এটা কতটুকু ইসলাম সম্মত হয়েছে বা হচ্ছে?
আমি আমার ভাইকে স্পষ্ট বলতে চাই, আর কতদিন আমি মানুষের টাকা আঁটকিয়ে রাখবো? আমার জ্বীনের থাকার জায়গা যদি একলা, মানে এ ঘরটিই হয়, তাহলে আজ এতো বছরেও সে ইনকাম করে দেয়ার পথ সুগম করছে না কেন? অথবা টাকা নিয়ে আসছে না কেন? কিন্তু আর কত!?
আমার ভায়ের প্রতি আমার কথা হচ্ছে, আমার এ জ্বীন গঠিত রোগ প্রথম যখন উদিত হয়, তখন আমি আপনাদেরকে মেনে চলিনি, আপনাদেরকে সমীহ্ করিনি; আর এ কারণে আপনারা এ জ্বীনকে তাড়ানোর জন্যে বা হত্যা করে ফেলার জন্যে প্রাণান্তর চেষ্টা করলেন, এবং সমস্ত কৌশল প্রয়োগ করলেন ও এ বিষয়ে আপনাদের প্রায় সর্বশক্তি নিয়োগ করলেন, কিন্তু কিছুকাল আমায় ভূলাতে পারলেও, পরে জ্বিন আবার উদিত হয়ে গেলো। এবং এ কাজে অর্থব্যয় করতে গিয়ে বা আপনাদের কৌশলগত অবস্থান নিতে গিয়ে, আমাকে প্রায় মিসকিন, নিঃস্ব আর একা করে দিলেন দুনিয়ায়। অবশেষে সবকিছুতেই ব্যর্থ হওয়ায়, তখন আপনারাও সবাই সীদ্ধান্ত নিলেন যে, ভবিষ্যত জীবনে আমার সম্মানীয় সকল কাজে আপনারা আমায় অসহযোগিতা করবেন ও যা বাস্তবেও ঘটাচ্ছেন এবং ঘটিয়েছেন। আমার কোন কাজে আপনাদের কেউ অংশগ্রহণ করেননি! আর তা করতে গিয়ে আপনারা আমার ভালোকে ভালো বলেও মানুষের নিকট প্রকাশ করেননি বা করছেন না এবং আমাকে শয়তান জীন হিসেবে চিহ্নিত করে পুরো সমাজে, আপনাদের সকল চ্যানেলে ম্যাসেজ দিলেন, ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন ও আমায় দাবিয়ে রাখতে সকল চেষ্টাই বা সকল কৌশল বা অপকৌশলই অব্যাহত রাখলেন। আমার স্ত্রীকে প্ররোচিত করে, তাকে লাই দিয়ে, আমাকে কষ্টের আর সীমা রাখলেন না।
যার কারণে আমার বেঁচে থাকা বা বেড়ে উঠা কেমন হয়েছিলো বা হচ্ছে ভাই!?
সাধারণ মানুষ কি এ অবস্থা ও পরিস্থিতিতে বাঁচতে পারে!?
আমার বিরুদ্ধে এ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী কে বা কারা?
রোজ হাশরে আল্লাহু তা'য়ালা যদি আপনাদেরকে বলতে বলেন যে, আমি শয়তান জ্বীন কিভাবে(?), এ বিষয়ে জবাবদিহী করার জন্য! বা আপনাদের নিকট এর কী প্রমাণ রয়েছে, তা উপস্থাপন করার জন্য, বা সে প্রমাণ নিয়ে আসার জন্য, তখন পারবেন(?), মহান রবকে এ বিষয়ে সঠিক জবাব দিতে? নিজকে নির্দোশ প্রমাণ করতে!?
আপনি কি বুঝেন, আমার বিরুদ্ধে আপনাদের এমন মনস্তাত্তিক অবস্থানের কারণে ছোট ভাই হিসেবে বা পৃথিবীতে নবপ্রকাশিত হিসেবে আমার কী অবস্থা হয়েছিলো বা হচ্ছে!? এ কি একটা স্নায়বিক যুদ্ধের মতো না!? আমি একা; আর আপনারা যেন আমার বিরুদ্ধে সকল মানুষ!!
মনেরাখবেন, এ বিষয়ে মহান রবের নিকট আপনারা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারেন।
আরও মনে রাখবেন, আপনাদের এসব মানসিক অত্যাচারে পৃথিবীতে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করতেও বাধ্য হয়! এবং অনেক মানুষ পাগল হয়ে যায়! এসব বিষয়ে জ্বীন হয়তো উৎপাদক; কিন্তু দায় বা অপরাধটা মানুষের, মানে আপনাদের!
এবং এ রকম দোষে হয়তোবা আপনারাও দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন!!
আবার এসবেরই ফলশ্রুতিতে আজ যে আমার ও আমার পরিবারের সদস্যগণ প্রায় অর্ধাহারে বা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, এ জন্যেও কি আপনারা দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন না? অবশ্যই পারেন।
আবার দায় এডাতেও পারবেন না, যেহেতু আমি আপনাদের ভাই! এ আত্মীয়তার বন্ধন রবের পক্ষ থেকে। এ বন্ধন ছেদন করার অধিকার বা সুযোগ আমাদের কারোরই নেই।
এখন আবার আমার লোন পরিশোধে আপনি বা আপনারা দিচ্ছেন বাধা!
এখন কথা হচ্ছে, আমার এসব বিষয়ে, রবের নিকট আপনারা পার পাবেনতো!?
তো এখন আমার স্পষ্ট কথা হচ্ছে, যেহেতু আমার বড় ভাই, জনাব শরাফত উল্যাহ শরীফ, এ জমিটি বিক্রি করে আমার দেনা পরিশোধ করতে দিচ্ছে না, এবং যেহেতু জমি ও ঘরটি আইনত আমার, ও যদিও ঘরটি বিক্রী করতে আমার স্ত্রী, পুত্র, কন্যাগণ বাধা দিচ্ছে, তবুও যেহেতু আমি ঘরটি বিক্রি করে আমার নিকট মানুষের পাওনা সমূহ মিটিয়ে দিতে চাই, আর যেহেতু ঘরটি বিক্রি করতে আপনিই (জনাব শরাফত উল্যাহ শরীফ) বড় বাধা, তাহলে যৌক্তিক ভাবে, আমার লোনের সকল দায়-দায়িত্ব থাকবে আপনার উপর।
এ বিষয়ে যেহেতু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং যেহেতু এতে আপনি দিচ্ছেন বাধা, আর যেহেতু আমি আমার সম্পত্তি বিক্রি করে, আমার লোন পরিশোধ করতে চেয়েছি, আপনার সম্পত্তি নয়; আর তাই মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট আমার এ লোনের সকল দায়-দায়িত্ব থাকবে আপনার।
এ বিষয়ে, যারা আমার কাছে টাকা পাবেন, তাদেরকে বলতে চাই, যেহেতু আপনাদের পাওনা টাকার বিপরীতে আমি এ ঘরটি উপস্থাপন করছি, তাই ইনশা'আল্লাহ আপনাদের টাকা মার যাবে না।
অপরদিকে আপনারা নিশ্চয় জানেন যে, মানুষ কখনো নিঃশ্বেষ হওয়ার মতো জ্বীব নয়। মানুষ যদি কেউ কারো উপর জুলুম করে, তবে মহান রব পাওনাদারের পাওনা অবশ্যই লয়ে দিবেন বা মিটিয়ে দিবেন। হয়তো আমাদের ঐ রকম অনুভূতি নাই বিধায় আমরা তা বুঝতে পারিনা। সে হিসেবে এটা ১০০% সত্য যে, আপনাদের টাকা আপনারা পাবেনই। এবং আপনাদের টাকা মিস যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
তবে আমি আপনাদেরকে কোন ধরনের কৌশলগত কথা বলতে চাই না। ইনশা'আল্লাহ আমার জীবদ্দশাতেই আমি আপনাদের পাওনা পরিশোধ করে দেবো!
আপনাদেরকে আজ বলতে ইচ্ছে করছে যে, আমার অনেক আশা ছিলো, এ ঘরের এখানে একটি মহিলা মাদরাসা দিই। এবং ঘরটি হযরত ঈমাম মাহাদী (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) এ দু'জনের নামে সমান ভাবে ওয়াকফ করি! যারা আমার সমিতির কনস্টিটিশন/গঠনতন্ত্র পড়েছেন তারা বিষয়টি জানেন। সেখানে এ কথাগুলো আমি উল্লেখ করেছিলাম। জায়গা স্বল্পতার কারণে আমার উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্যগণ আমায় মাদরাসা দেয়ার অনুমোদন না দেয়ায়, এই জায়গায় মাদরাসা দেয়ার কাজে আমি হাত দিতে পারিনি। তবে মনে সুপ্ত ছিলো, সে ইচ্ছা ও প্ল্যান! কিন্তু আর পারলাম কই! পরীও আসে না, টাকার মালিকও হই না, মাদরাসা দেওয়াও আর হলো না!
ঘরটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিতো, তাই শেষবারের জন্যে হলেও এ ঘর বা এ জায়গা নিয়ে আমার মনের সুপ্ত ইচ্ছাটা একবার আপনাদেরকে শুনালাম।
তবে আমার যে উদ্দেশ্যেই থাক না কেন, মানুষের পাওনা টাকা না দিয়ে, ঘরটিকে নিজের করে রাখা কি আর যুক্তিযুক্ত হবে!?
সবমিলিয়ে আমার ভাইসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলতে চাই, আগামী ০১/০১/২০২৬ ইং থেকে আমার নিকট সমিতির বিষয়ে মানুষের সকল পাওনা সমূহের কোন দায়-দায়িত্ব (লোনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত) মহান আল্লাহু তা'য়ালার নিকট আমি আর বহন করবো না। ইনশা'আল্লাহ আশা করছি মহান রব আমাকে এ বিষয়ে কোনরূপ দোষারোপ করবেন না। এ দায়-দায়িত্ব আমার বড় ভাই জনাব শরাফত উল্যাহ শরীফ সাহেব বহন করবেন। আমার কাছে কে কে টাকা পাবে এবং কত করে পাবে, এর বিস্তারিত তিনি এখানে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন বা ঐ পোস্ট অনুযায়ী এ বিষয়ে হিসাব রাখতে পারেন। আমার এ লোন পরিশোধের জন্য আমি তার নিকট সমিতির এ অফিস ঘরটি রাখছি!
এবার তিনি চিন্তা করবেন, তিনি এ দায়িত্ব নিবেন কিনা! তিনি যদি এ দায়িত্ব নিতে চানতো ভালো কথা, আর যদি না নিতে চান, তাহলেও যেহেতু তিনি আমার এ ঘরটি বিক্রী করে মানুষের পাওনার টাকা পরিশোধে বাধা দিচ্ছেন, তাই অটোভাবে এর সকল দায়-দায়িত্ব তার উপরই বর্তাবে। আমার মনে হয় ইসলামিক কনস্টিটিউশান অনুযায়ী বিচার এ রকমই হবে। ও এ দায় এডানোর কোন সুযোগই তার থাকবে না।
আপনারা জানেন যে, আমি মহিলা জীন বা জীন জাতি দ্বারা ঘ্রাসকৃত। আপনারা আরো জানেন যে, চারদিকে শুনা যায়, জ্বীন নাকি মানুষকে উধাও করে কোথায় যেন নিয়ে যায়!
আমার জীবনে যদি সেরকম কিছু না ঘটে, তাহলেতো আমার পাওনাদারেরা আমার কাছেই চাইবে, যদিও আল্লাহু তা'য়ালার নিকট এর সকল দায়-দায়িত্ব আমার এ ভাই'ই বহন করবে; আর ঘটনাক্রমে আমি যদি না'ই থাকি, তাহলেও আমার এ ভাইয়ের (জনাব শরাফত উল্যাহ শরীফ) কাছেই সকলে চাইবে এবং আমার এ ভাইয়ের কাছ থেকেই সমিতি বিষয়ক মানুষের এ পাওনা সমূহ নিবে। এটিই আইনসিদ্ধ ও আমার পক্ষ থেকে তার প্রতি অর্পিত।
এককথায় যেহেতু ঘরটি আমি আমার নিকট আপনাদের পাওনা টাকার বিপরীত করেছি, তাই ইনশা'আল্লাহ আপনাদের টাকা মার যাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নাই।
এবার আমার ভাই চিন্তা করবেন, তিনি দায়িত্ব নিবেন, না নিবেন না! যদি তিনি দায়িত্ব না নিতে চান, তাহলে অবশ্যই তিনি ঘরটি বিক্রির বিষয়ে কাউকে আর বাধা প্রদান করবেন না, অথবা ঘরটি তিনি নিজে ক্রয় করবেন!
আসলে যেখানে প্যাঁচ, আমার সাথে থাকা এ জ্বীন সম্প্রদায় অটোভাবে আমাকে সেখানে ফেলবে, এ যেন আমার ভাগ্য। এবার সেখান থেকে কঠিন পরীক্ষা দিয়ে, হাবুডুবু খেয়ে আমাকে বেরিয়ে আসতে হবে, এ যেন আমার দুনিয়ার পরীক্ষা; এটাই যেন আমার জীবন! না হয়, আমি যে ঘরটি বিক্রী করতে চাই, সেই ঘরে বড় ভাইদের সাথে এতো প্যাঁচ থাকবে কেন? প্যাঁচ ওয়ালা জায়গার মালিক প্রথম থেকে আমি হবো কেন?
কিন্তু আমি যত কথাই বলি, মানুষের টাকা আমাকে দিতেই হবে। তাই এটা সত্য যে, এ বিষয়ে যতই লেইট করছি, ততই আমার পাপের বোঝা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
এতোদিন আমি রিস্ক নিয়ে, নিজকে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলাম যে, ইনকাম করে কিছু কিছু করে শোধ করে ফেলবো!
কিন্তু আল্লাহর কোন্ মহিমা বা আমাকে আসর করা এ জ্বীন জাতির কোন্ কারিশমা, সমিতি বন্ধ করে দেয়ার পর, আজ প্রায় ৪/৫ বছর হয়ে গেলেও, আমি ইনকাম করে মানুষের তেমন কোন টাকাই শোধ করতে পারিনি। এমনকি পরিবার-পরিজনের মুখে আমি ভাতও দিতে পারছিনা ঠিকমতো। তবে বাবার নামীয় জমি বিক্রী করে কিছু শোধ করেছিলাম।
ঘর, উঠান, পুকুর ছাড়া আমার কাছে এখন আর কোন জমি'ই নাই। যদি জমি থাকতো, তাহলে এতো অপমান সয়ে আমি বসে থাকতাম না। বিক্রী করে নিশ্চয় অনেক আগেই মানুষের পাওনা শোধ করে ফেলতাম। এবং হয়তো আমার ভায়েরাও আমাকে বাধা দিতো না!
কিন্তু তারপরও কথা হচ্ছে, পাওনাদারদের টাকা আমি আর কতদিন ঘুরাবো!
আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমি রাস্তার পাশে নির্মিত, সমিতির অফিস পরিচালনার জন্যে করা, যে ঘরটি আমি বিক্রী করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ ঘরটিতেই থাকি। রাত্রি যাপন করি। আমি বাড়িতে তেমন একটা যাই না। যেহেতু আমার সাথে জ্বীন জাতির সদস্যগণ বিশেষ করে মহিলা সদস্যগণ থাকে (আমার শারিরীক ও মানসিক বিভিন্ন উপস্বর্গ এবং আচার-ব্যবহার দ্বারা, যা অনেকটা প্রমাণিত) এবং যেহেতু সবাই মিলে আমাকে দুষ্ট জ্বীন হিসেবে চিহ্নিত করায়, তাই আমার বাড়ি ঘরসহ সর্বত্র আমাকে সবাই দূর দূর করে; এবং দৈত স্বত্তা ও একেবারেই আল্লাহ ভীরুতা, সৎ, সহজ-সরল জীবন-যাপনে চেষ্টা করা, অথচ সিস্টেম্যাটিক্যালি পাপে নিমর্জতা, সব মিলিয়ে আমার প্রতি মানুষের রহস্য, বেহুদা সন্দেহ ও অবিশ্বাসমূলক দৃষ্টিভঙ্গি থাকায় আমি সবার সাথে থাকতে পারিনা।
তাছাড়া পরিবারের সদস্যদের মুখে যখন ভাত দিতে পারিনা, পরনে কাপড় দিতে পারিনা, শিক্ষা খরচ বা ঔষুধ খরচ ব্যয় করার সামর্থ যখন রাখি না; অপরদিকে সেই পরিবারের সদস্যরা যখন পরিবার প্রধানের মর্যাদা বা তাকে মেনে চলাকে প্রাধান্য না দিয়ে এসবকেই (ভাত-কাপড়) প্রাধান্য দেয়, তখন সেখানে তাদের সাথে থাকা, আমি কেন, কোন পূরুষের দ্বারাই হয়তো সম্ভব হবে না। এবং সংসার টিকানো বা শান্তির স্বার্থে বা পারিবারিক কলহ থেকে দূরে থাকতে এ অবস্থা ও পরিস্থিতিতে একলা থাকাই উত্তম হবে বলে মনে করছি।
আবার স্বাভাবিক ভাবেই জ্বীন সদস্যদের বৈশিষ্ট্য মানুষের চাইতে ভিন্ন হবে, ভিন্ন হয়। আর আমার সাথে জ্বীন সদস্য থাকে বিধায়, ভবিষ্যতেও অন্তত আমার একান্ত বা পার্সোনাল সময় সমূহের একটি অংশ আমাকে মানুষবিহীন একা থাকতে হবে! আমার জীবন-যাপন অন্য মানুষদের মতো হবে না; এটা একেবারেই স্বাভাবিক। যা লিখার মাধ্যমে হয়তো আমি সবকিছু বোঝাতেও পারবো না।
এ পরিস্থিতিতে আমাকে সুস্থ থাকতে হলে, আমাকে একাই থাকতে হবে। যা বিবেকবান মানুষ অবশ্যই বুঝতে পারেন বা পেরেছেন।
যে কারণে এ ঘরে আমি একা থাকি। বাড়ি যাই না। এ অবস্থায় বাড়িতে থাকলে হয়তো অল্প কয়েক দিনেই আমি মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে যেতে পারি বা অন্তত আমার মানসিক অবস্থার অবনতি হতে পারে।
তবে স্ত্রী এবং সন্তানদের বিভিন্নমুখী হক ও অধিকার প্রদানে আমি সচেষ্ট রয়েছি। এ বিষয়ে আমি সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করছি ও সহ্য করছি। এতে মাঝে মাঝে আমি যেমন বাড়ি গিয়ে থাকছি, ঠিক তেমনি তারাও আমার এখানে আসছে।
কিন্তু এরপরও কিছু কিছু সদস্য, তাদের টাকা দেয়ার জন্য, আর যেন আমাকে সময় দিতেই চাচ্ছেন না। বার বার ফোন করছেন। মসজিদের মধ্যে ধরছেন। রাস্তা-ঘাটে ধরছেন। আবার অনেকে এমন আছেন যে, তারা হয়তো আমার ভিটে-মাটি বিক্রী করে তাদের পাওনা পরিশোধ করলেই তারা খুশি থাকবেন। আমার এ ঘরটি আমার ভিটে মাটিই! যেহেতু এখানেই আমি থাকি!
তাই আপনাদের এমন আচরনে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে এবং নরমালিই আপনাদের টাকা আমি আর কতদিন ঘুরাবো, আমার নিজ মনের প্রেরণা ও তাড়না থেকেও বাধ্য হয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রাস্তার পাশে আমার সমিতির অফিস ঘরটি, (যেটাতে আমি থাকি এবং যেটাতে থেকে আমি নিজকে কোন রকম সুস্থ রাখতে পারছি!) আমি বিক্রি করে মানুষের টাকাগুলো আমি দিয়ে দেবো।
তবুও আশ্বর্য হয়ে আমি একটি বিষয় লক্ষ করেছি, এ জ্বীন সম্প্রদায়টি আমাকে যেমন জটিল থেকে জটিলতর পরীক্ষা সমূহে ফেলছে, ঠিক তেমনি এসব থেকে উদ্ধারেও সহযোগিতা করছে। যার জন্য আমার মাঝে এদের আগমণকে, আল্লাহর কোন এক মহিমা হিসেবেই আমি চিহ্নিত করেছি।
যাক সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয়, আজ হোক বা কাল হোক, আমার এ মহিলা জ্বীন বা জ্বীন সম্প্রদায় আপনাদের এ টাকার একটা ভালো ব্যবস্থা করবেন, অথবা আমার ভাই আপনাদের পাওনার টাকা পরিশোধ করবেন অথবা তিনি এ ঘর বিক্রয়ে কোনরূপ বাধা প্রদান করবেন না।
তবে আমি কিন্তু এসবের ধার ধারি না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিতো নিয়েছিই। যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাই লাভ-লোকসান আর বুঝতে চাই না। কোথায় আমি থাকবো, কিভাবে আমি সুস্থ থাকবো, জীনসহ কিভাবে বাড়িতে সবার সাথে একসাথে থেকে বেঁচে থাকবো, এসবের চিন্তা থাকলেও মানুষের জ্বালাতন ও আমার প্রতি মানুষের বেড মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গি আর ব্যবহার সহ্য করতে পারছি না বিধায়, বাধ্য হয়েই, আমি ঘরটি বিক্রী করে মানুষের পাওনা সমূহ দিয়ে দিতে চাচ্ছি। মানুষের পাওনার টাকা আঁটকিয়ে রেখে আর কত অপমাণ আমি সইতাম, বলেন?
এ বিষয়ে আমার পাওনাদারদেরকে পরামর্শ দিতে চাই যে, আপনারা মাঝে-মধ্যে আপনাদের পাওনা টাকাটা আমার এ ভাইয়ের কাছে চাইবেন? এ বিষয়ে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে, তার নিকটই জানতে চাইবেন, তাহলে আরিফ সাহেবতো ঐ ঘরটি বিক্রী করে, আমাদের টাকা দিয়ে দিতে চান, এতে আপনি বাধা দিচ্ছেন কেন?
যাক, এ পোস্ট প্রকাশের পরে আমার ভাইয়ের মধ্যে কী পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সকলে ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। সুন্দর থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।
ফবফপপন পটঠডছডড পফঠটঠ

0 Comments